একই ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং ধর্মীয় নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে ‘ক’ রাষ্ট্রের সংবিধান রচনা করা হলো । এ রাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্রের সকল কাজে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। । উক্ত রাষ্ট্রের আইন সভায় একটি বিল পাসের ব্যাপারে আইন সভার মোট ২১০ জন সদস্যের মধ্যে ১৪০ জনের সম্মতি না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায় ।
সংশোধনের ভিত্তিতে 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান কোন শ্রেণির? ব্যাখ্যা কর ।
(প্রয়োগ)সংশোধনের ভিত্তিতে 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়।
সংবিধান কোন পদ্ধতিতে সংশোধন করা যেতে পারে তার ওপর ভিত্তি করে সংবিধানকে সুপরিবর্তনীয় ও দুষ্পরিবর্তনীয় এই দুই ভাগে ভাগ করা যায়। সাধারণ আইন পাসের পদ্ধতিতে সুপরিবর্তনীয় সংবিধান অতি সহজে পরিবর্তন করা যায়। অন্যদিকে দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান সংশোধন সাধারণ আইন পাসের পদ্ধতি দ্বারা সম্ভব হয় না। আর উদ্দীপকের সংবিধানও যেহেতু সহজে পরিবর্তন করা যায় না সেহেতু এটিও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' রাষ্ট্রটির সংবিধান একই ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং ধর্মীয় নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে রচনা করা হয়। রাষ্ট্রের আইনসভায় একটি বিল পাসের ব্যাপারে আইন সভার মোট ২১০ জন সদস্যের মধ্যে ১৪০ জনের সম্মতি না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়, যা আমরা দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে দেখতে পাই। কেননা আমরা জানি, দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধানের কোনো বিধান সহজে সংযোজন, পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না। এক্ষেত্রে সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় করা যায় না। প্রয়োজন হয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সম্মেলন ও ভোটাভুটির। তাই বলা যায় সংশোধনের ভিত্তিতে 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়।
আমরা রাষ্ট্রে বাস করি। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে। এসব নিয়মাবলির সমষ্টিকে সংবিধান বলে । সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় । সংবিধানকে বলা হয় রাষ্ট্রের দর্পণ বা আয়নাস্বরূপ । সংবিধানে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, শাসকের ক্ষমতা এবং নাগরিক ও শাসকের সম্পর্ক কিরূপ হবে তা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে । কাজেই রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সংবিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন । এ অধ্যায়ে আমরা সংবিধানের ধারণা, সংবিধানের গুরুত্ব, সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, বিভিন্ন প্রকার সংবিধানের বৈশিষ্ট্য, বাংলাদেশের সংবিধান তৈরির ইতিহাস, এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এবং বিভিন্ন সংশোধনী সম্বন্ধে জানব ।
এ অধ্যায় পড়া শেষে আমরা-
১২১৫ সালে ইংল্যাণ্ডের রাজা জন যে অধিকার সনদ প্রণয়ন করেছিলেন তার নাম কী ?
(জ্ঞানমূলক)সংবিধান প্রণয়ন প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা কর ।
(অনুধাবন)‘ক’ সংগঠনটি পরিচালনার নিয়মাবলি কোন ধরনের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তাআলোচনা কর ।
(প্রয়োগ)“ক' ও ‘খ’ প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালনার নিয়মাবলির মধ্যে তুমি কোনটিকে উত্তম বলে মনে কর তার পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন কর ।
(উচ্চতর দক্ষতা)বাংলাদেশের সংবিধান কত তারিখে কার্যকর হয়?
(জ্ঞানমূলক)অলিখিত সংবিধান বলতে কী বোঝায় ।
(অনুধাবন)আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?